শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৮:০০ পূর্বাহ্ন

সাতকানিয়ার উপজেলা মৈশামুড়া ইউনিয়নে শত শত একর কৃষকের জমি নষ্ট করে অবৈধ বালু উত্তোলন

মোহাম্মদ নাসির, বিশেষ প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২১

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার খাগরিয়া ইউনিয়নের মৈশামুড়া গ্রামে একটি কুচক্রী মহল ব্যাক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য শত শত কৃষকের ফসলি জমি কেটে অবৈধ খাল খনন করে বালি বিক্রির জন্য স্কেবেটর দিয়ে সকল বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে কাজ করে যাচ্ছে।এতে এলাকার শত শত কৃষকের একমাত্র ফসলি জমি নষ্ট হলে অনাহারে ও অর্ধাহারে দিনাতিপাত করতে হবে বলে অভিযোগ করছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। এলাকাবাসীর অভিযোগ শঙ্খ নদীতে সরকারি নির্দেশে ড্রেজিং এর কাজ চলছে। উক্ত ড্রেজিংয়ের বালি বিক্রির জন্য এলাকার একটি কুচক্রী মহল কৃষকের ফসলি জমি কেটে স্কেবেটর দিয়ে অবৈধ খাল খনন করছে।
এব্যাপারে এলাকার কৃষকরা বাধা দিলে তাদের কে সরকারের কাজে বাধা দেয়ার অপরাধে মামলা দেয়ার হুমকি ধমকী দিচ্ছে বলে জানান। খাগরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার সোহেল আরাফাত রানা সাংবাদিকদের জানান, আমার এলাকার কয়েক শত একর ফসলি জমি স্কেবেটর দিয়ে কেটে ফেলছে। এ ব্যাপারে আমি ও এলাকার শত শত কৃষক বাধা দিলে কাজ স্থগিত করেন এবং আমি সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি অভিযোগ দায় করেছি। তারা কিছু দিন কাজ বন্ধ রেকে আবার রাতের অন্ধকারে সবার অগোচরে অবৈধভাবে খাল খনন করে ফেলছে। আমি এ ব্যাপারে খাগরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আকতার হোসেন কে অবহিত করি। তিনিও কাজ বন্ধ রাখার জন্য বলেন।

চেয়ারম্যান আরো জানান যে, এ ব্যাপারে উপজেলানির্বাহী অফিসারের সাথে কথা হয়েছে । তিনি অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ করার জন্য তার বরাবরে একটি অভিযোগ দেয়ার পরামর্শ দেন। এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান আকতার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, কৃষি জমি কেটে অবৈধ খাল খনন একটি জগন্য কাজ। তিনি এ ব্যাপারে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। সচেতন মহল মনে করেন এখনোই যদি এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা না হয় তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে শত শত ঘরবাড়ি ও শত শত একর ফসলি জমি এবং এই অবৈধ বালু উত্তোলন কে কেন্দ্র করে যে কোন সময় ঘটে যেতে পারে রক্তক্ষী সংঘর্ষ।তাই প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের উচিত কোন বড় ধরনের সংঘর্ষ না হওয়ার আগেই কৃষকের ন্যায্য দাবি মেনে একটা সমধানের বিহিত করা।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন,আমরা ভাঙনের বিপক্ষে। তাছাড়া আমি এখানে যোগদান করেছি অল্প কিছুদিন হচ্ছে। সবকিছু হয়ত আমার জানা নাও থাকতে পারে। আমি যতটুকু জানি ইজাদারদের কার্যাদেশ অনুযায়ী জায়গা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে কেউ বালু উত্তোলন করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ইজারা বাতিলের জন্য ঊর্ধ্বতন মহলে সুপারিশ করা হবে।’

Please Share This Post in Your Social Media

এ বিভাগের আরো সংবাদ