শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০৮:২২ পূর্বাহ্ন

যুগে যুগে ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করে আসছে মুসলমানরা

মোঃ লিটন চৌধুরী রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২১

হযরত আব্বাস (রাঃ) নবী করীম (সাঃ) এর জন্ম প্রসঙ্গে ৯ম হিজরীতে একটি কবিতায় বলেছেন।

হে প্রিয় রাসূল,(সাঃ) আপনি যখন ভূমিষ্ঠ হন, তখন পৃথিবী উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছিল এবং আপনার নূরের ছটায় চতুর্দিক আলোময় হয়ে গিয়েছিল।(বেদায়া ও নেহায়া)।

বিশিষ্ট সাহাবী হযরত হাসসান বিন সাবিত (রাঃ) মীলাদুন্নবী নবী (সাঃ) বর্ণনা প্রসঙ্গে একখানি কবিতাগ্রন্থ লিখেছিলেন এবং হুযুর নবী (সাঃ)-কে শুনিয়েছিলেন। পরবর্তীতে যার নাম রাখা হয়েছিল দিওয়ানে হাসসান বিন সাবিত।

হে প্রিয় রাসূল (সাঃ) আপনি সর্বপ্রকার দোষ-ত্রুটিমুক্ত হয়েই মাসুম হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছেন। মনে হয়, যেন আপনার ইচ্ছা অনুযায়ীই আপনার বর্তমান সুরত পয়দা করা হয়েছে। মহান আল্লাহ আযানের মধ্যে আপন নামের সাথে আপনার নাম সংযোজন করেছেন, যখন মুয়াযযিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের আযানে উচ্চারণ করেন, আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলাল্লাহ’ (সাঃ)। আর আল্লাহ আপন নামের অংশ দিয়ে তাঁর প্রিয় হাবীবের নাম রেখেছেন। আরশের অধিপতি হলেন ‘মাহমুদ’এবং ইনি হলেন ‘মুহাম্মদ(সাঃ)। মাহমুদ থেকে মুহাম্মদ নামের সৃষ্টি হয়েছে এবং আহাদ থেকে আহমদ নামের সৃষ্টি হয়েছে (আল হাদীস)।

প্রসিদ্ধ তাবেঈ হযরত হাসান বসরী (রঃ) বলেনঃ আমার একান্ত ইচ্ছা হয় যে, আমার যদি ওহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ’থাকতো তাহলে তা মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষে ব্যয় করতাম।

হযরত জুনাইদ বাগদাদী (রঃ) বলেনঃ
যে ব্যক্তি ঈদে মিলাদুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ উপস্থিত হয়ে তাকে সম্মান প্রদর্শন করেছে, সে ঈমানের সফলতা লাভ করেছে।

হযরত মারুফ কারখী (রঃ) বলেনঃ
যে ব্যক্তি ঈদে মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উপলক্ষে পানাহারের আয়োজন করে মুসলিম ভাইদের একত্রিত করে, আলোকসজ্জা করে, নতুন পোষাক পরিধান করে এবং খুশবো, আতোর, গোলাপ ও লোবান প্রয়োগে নিজেকে সুগন্ধিযুক্ত করে; রোজ কিয়ামতে প্রতম শ্রেণীর নবীদের সাথে তার হাশর হবে এবং ইল্লীঈনের সর্বোচ্চ স্থানে সে অবস্থান করবে। (আন নেয়মাতুল কুবরা আলাল আলাম, পৃষ্ঠা নং-১১)

শাফেঈ মাযহাবের প্রবর্তক ইমাম শাফেঈ (রঃ) বলেনঃ
যদি কোন ব্যক্তি ঈদে-মিলাদুন্নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উপলক্ষে মুসলিম ভাইদেরকে খাবার তৈরী করে মজলিসে আপ্যায়ন করে ও ইবাদত সম্পন্ন করে, রোজ কিয়ামতে সিদ্দীকিন, শাহাদা ও সালেহীনদের সাথে তার হাশর হবে এবং জান্নাতুন নাঈমে সে অবস্থান করবে। (আন নেয়মাতুল কুবরা আলাল আলাম, পৃষ্ঠা নং-১৩)

৯ম শতাব্দীর মুজাদ্দিদ আল্লামা জালালুদ্দিন সুয়ুতি (রঃ) বলেনঃ
মীলাদুন্নবী (সাঃ)উদযাপন যা মূলত, মানুষদের সমবেত করা, কুরআনের অংশ-বিশেষ তেলাওয়াত, মহানবী (সাঃ)-এর ধরাধামে শুভাগমন (বেলাদত) সংক্রান্ত ঘটনা ও লক্ষ্মণগুলোর বর্ণনা পেশ, অতঃপর তবাররুক (খাবার) বিতরণ করা। আর যে ব্যক্তি এর অনুশীলন করেন তিনি সওয়াব অর্জন করেন, কেননা এতে জড়িত রয়েছে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর মহান মর্যাদার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং তাঁর সম্মানিত বেলাদতের প্রতি খুশি প্রকাশ।
(আল-হাওয়ী লিল্ ফাতাওয়ী ১ম খণ্ড, ২৯২ পৃষ্ঠা)

তিনি আরও বলেনঃ
যে গৃহে বা মসজিদে কিংবা মহল্লায় মীলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষ্যে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মীলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। তখন অবশ্যই সে গৃহ বা মসজিদ বা মহল্লা অসংখ্য ফেরেশতা দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে এবং উক্ত স্থান সমূহে যারা অবস্থান করে তাদের জন্য তারা সালাত পাঠ করে। (অর্থাৎ তাদের গুণাহর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে) এবং আল্লাহ তায়ালা তাদের সবাইকে সাধারণভাবে রহমত ও সন্তুষ্টি দ্বারা ভূষিত করেন। অতঃপর নূরের মালা পরিহিত ফেরেশতাকুল বিশেষতঃ হযরত জিব্রাঈল, মীকাঈল, ঈস্রাফীল ও আজরাঈল আলাইহিস সালাম মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষ্যে মাহফিল আয়োজনকারীর গুণাহ মাফের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে থাকেন সুবহানাল্লাহ।

তিনি আরো বলেনঃ
যে মুসলমানের গৃহে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মীলাদ পাঠ করা হয়, সে গৃহে বসবাসকারী ব্যক্তি দুর্ভিক্ষ, মহামারী, অগ্নি, পানি, পরনিন্দা, কুদৃষ্টি ও চুরি ইত্যাদির আক্রমণ থেকে মুক্ত থাকবে। সে ঘরে যার মৃত্যু হবে সে মৃত ব্যক্তি কবরে মুনকার নকীরের প্রশ্নের উত্তর অতি সহজে দিতে পারবে। যে ব্যক্তি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মীলাদ কে সম্মান করতে চায়, তার জন্য ইহাই যথেষ্ট। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তির নিকট নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মীলাদের কোন মর্যাদা নেই, তার অন্তর এত নিকৃষ্ট হয়ে পড়বে যে, তার সামনে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিশ্বজোড়া প্রশংসাগীতি উচ্চারিত হলেও তার অন্তরে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্য বিন্দুমাত্র মুহাব্বতের উদ্রেক হবে না। (আন নেয়মাতুল কুবরা আলাল আলাম, পৃষ্ঠা নং- ১৩ ও ১৪)।

হযরত সাররী সাক্বত্বী (রঃ) বলেনঃ

যে ব্যক্তি মিলাদ শারীফ পাঠ বা মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন করার জন্য স্থান নির্দিষ্ট করল, সে যেন তার জন্য জান্নাতে রওজা বা বাগান নির্দিষ্ট করল। কেননা সে তা হুজুর পাক (সাঃ) এর মহব্বতের জন্যই করেছে।
(আন নেয়মাতুল কুবরা আলাল আলাম, পৃষ্ঠা নং- ১৩)

নবী করীম(সাঃ)এর নবুয়ত পরবর্তীকালে নিজেই সাহাবীদেরকে নিয়ে নিজের মিলাদ পড়েছেন এবং নিজ জীবনী আলোচনা করেছেন। যেমন- হযরত ইরবায ইবনে ছারিয়া (রাঃ) একদিন নবী করীম (সাঃ) কে তার আদি বৃত্তান্ত বর্ণনা করার জন্য আরয করলেন নবী করীম (সাঃ) এরশাদ করেন- আমি তখনও নবী ছিলাম- যখন আদম (আঃ)-এর দেহের উপাদান – মাটি ও পানি পৃথক পৃথক অবস্থায় ছিল। অর্থাৎ আদম সৃষ্টির পূর্বেই আমি নবী হিসেবে মনোনীত ছিলাম।

আমাকে হযরত ইব্রাহীম (আঃ) দোয়া করে তার বংশে এনেছেন- সুতরাং আমি তার দোয়ার ফসল। হযরত ঈসা (আঃ) তার উম্মতের নিকট আমার আগমনের সুসংবাদ দিয়েছিলেন। তারা উভয়েই আমার সম্পর্কে পূর্ণ অবহিত ছিলেন। আমার আম্মা বিবি আমেনা আমার l

Please Share This Post in Your Social Media

এ বিভাগের আরো সংবাদ