মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন

ময়মনসিংহ যৌনপল্লীতে এক সাংবাদিকের রমরমা মাদক বানিজ্য

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১

জুবায়ের খন্দকার, ময়মনসিংহঃ- 

ময়মনসিংহের যৌনপল্লীতে দীর্ঘদিন যাবৎ একটি মহল কিছু অসাধু পুলিশের মদদে যৌনপল্লীর অপরাধের ত্রাস আর মাদকের রমরমা বানিজ্য গড়ে তুলেছে। তবে কিছু অসাধু পুলিশের সাথে এবার এই অন্ধকার জগতকে নিয়ন্ত্রন করছেন কথিত এক সাংবাদিক। এই কথিত সাংবাদিকের বিরূদ্ধে নগরীর নানা মহলে রয়েছে নানা ধরনের অভিযোগ। ময়মনসিংহ নগরীসহ আশপাশের জেলা ও উপজেলা থেকে আগত খদ্দেরদেরকে নাজেহাল করে ছেড়ে দেন তিনি। অনেকটা ব্ল্যাকমেইল করে তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় মোটা অংকের টাকা।

কথিত এই সাংবাদিক তার নিজেস্ব প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকায় নিজের অবস্থান ঠিক রাখতে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষে লিখেন। আর অন্যান্য সরকারি অফিসারদের বিরূদ্ধেও নিজের অবস্থান ঠিক রাখতে লেখালেখি করে থাকেন। আর এ জন্য ময়মনসিংহের সবাই তাকে সাংবাদিক নয় বরং সাংঘাতিক নামেই চেনেন। কথিত এই সাংবাদিককে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের সবাই চেনেন। শুধু পুলিশ নয় বর্তমানে এই সাংবাদিক ময়মনসিংহ নগরবাসীর কাছেও সমালোচিত এবং ঘৃনিত।

তার নিজস্ব প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকা নগরীর বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে তিনি বিতরণ করে থাকেন। যদিও আমরা শুনেছি তার প্রকাশিত পত্রিকা পড়ার মত কোন পাঠকই নেই। এই কথা জানার পরও তিনি সংবাদগুলোর কাটিং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ই-মেইলে অথবা কখনো ডাকযোগেও পাঠিয়ে থাকেন। মানে বিষয়টা এমন যে, “গাঁয়ে মানেনা আপনি মড়ল”।

তার বিরূদ্ধে একের পর এক অভিযোগ রয়েছে। যেমন, তার ঘনিষ্টজন ও তার নিয়োগকৃত কিছু সাংবাদিক এই যৌনপল্লীতে এক রকম বাড়িঘর পেতে বসেছেন। তাছাড়া কথিত এই সাংবাদিক তিনি সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ফরেন লিকার যৌনপল্লীর সামনের গেটে বসে পারমিট বিহীন কিছু হকারদের কাছে কালোবাজারে মদ বিক্রির কাজে সহযোগিতা করে থাকেন। আর এই ফরেন লিকার সোর্প সংগৃহীত মদগুলো শিল্পী নামের এক যৌনকর্মীর ঘরে মজুদ রেখে চোলাই মদসহ কেরু নামক মদ বিক্রিতে সহযোগিতা করে থাকেন।

এছাড়াও কথিত এই সাংবাদিকের যৌনপল্লীর অন্দর মহলে নিজস্ব কিছু যৌনকর্মীও রেখেছেন যাদের দিয়ে তিনি ব্যবসা করেন। পূর্বে কথিত এই সাংবাদিকের বিরূদ্ধে যৌনপল্লীতে নারী কেনা-বেচার অভিযোগে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা রয়েছে। আর বর্তমানে এই যৌনপল্লীর অভ্যন্তরে দুইটি যৌনকর্মী রেখে যৌনপল্লীর সামনের এবং পেছনের গেইটে তার নিয়োগকৃত কিছু দালাল দিয়ে খদ্দের এনে এক চেটিয়া ব্যবসা করে যাচ্ছেন তিনি। যৌনপল্লী থেকে আয়ের টাকা দিয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বাসায় খাবারের বাজারসহ রান্না করা খাবার পাঠিয়ে থাকেন কথিত এই সাংবাদিক। অভিযোগ রয়েছে এখনও নাকি তার অনুমোতিতে যৌনপল্লীতে যৌনকর্মী ঢুকে।

এখন নগরবাসী প্রশাসনের দিকে প্রশ্ন করেছেন যে, কথিত এই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এতোকিছু প্রমাণ থাকার পরও পুলিশ প্রশাসন কেন নিরব ভুমিকা পালন করছেন?

Please Share This Post in Your Social Media

এ বিভাগের আরো সংবাদ