মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৪২ পূর্বাহ্ন

মাতারবাড়িতে অবৈধ বালু উত্তোলনে চলাচলে রাস্তা ও হুমকিতে ফসলি জমি

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১

মফিজুর রহমান, মহেশখালী প্রতিনিধি:

মহেশখালীতে পুকুরের মধ্যে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। যায় ফলে বসতবাড়ি, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা ধসে যাচ্ছে এবং হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ। স্থানীয় এক বালু ব্যবসায়ী প্রযুক্তিতে তৈরি ড্রেজার দিয়ে চলাচলের রাস্তার পাশে থাকা পুকুর থেকে যত্রতত্র ভূগর্ভস্থ বালু উত্তোলন করায় আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসী।

আজ ৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে উপজেলার মাতারবাড়ি ইউনিয়নের সাইরার ডেইল গ্রামে পুকুর থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে ভূগর্ভস্থ বালু উত্তোলনের ফলে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গ্রামের ভিতরে বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাস্তা সংলগ্ন লোকালয়ে বিশাল পুকুরের ভিতর ভূগর্ভস্থ বড় ধরনের গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় ধসে পড়তে পারে পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাড়ি ঘর ও জন চলাচলের রাস্তা। গত এক বছর ধরে পুকুর থেকে চুরি করে বালি উত্তোলনের এমন অবৈধ কাজটি করছেন সাইরার ডেইল গ্রামের ড্রেজার মালিক নুরুল আলমের পুত্র শাহাব উদ্দিন।

স্থানীয়রা জানান, মাটির নিচ থেকে কাদা বালু উত্তোলন করা হলে ভূমির উপরিভাগ ঠিক থাকলেও তলদেশের ব্যাপক জায়গা নিয়ে ফাঁকা হয়ে যায়। এভাবে প্রতিনিয়ত চলতে থাকলে বড় বড় স্থাপনা, রাস্তাঘাটসহ ব্যাপক এলাকা দেবে যেতে পারে। এটা পরিবেশের জন্য বড় ধরনের হুমকি। এছাড়াও কৃষি জমি থেকে বালু উত্তোলন করা হলে কৃষি জমিগুলো অকৃষিতে রূপান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ড্রেজার দিয়ে উত্তোলনকৃত ঠিকাদারদের তাদের নির্মাণ কাজে ব্যবহার করে। সড়ক ও সরকারি স্থাপনার মেঝে ভরাট করা হচ্ছে এ বালু দিয়ে। ভূগর্ভস্থ এ বালুতে কাদামাটির পরিমাণ বেশি থাকে। ফলে মাটি মিশ্রিত এ বালু দিয়ে তৈরি সড়ক ও স্থাপনা টেকসই না হওয়ায় প্রতিবছর সরকারের উন্নয়ন কাজের কোটি কোটি টাকা গচ্চা যাচ্ছে। তাছাড়া কম খরচে ও সহজ পদ্ধতিতে বালু পাওয়ায় ঠিকাদারদের পাশাপাশি বসতবাড়ি নির্মাণেও অনেকে পরিবেশ বিধ্বংসী এই ড্রেজার ব্যবহার করছে।

ঘটনাস্থলের পুকুরপাড় সংলগ্ন বাড়ির মালিক সৌদি প্রবাসী মোহাম্মদ রিদওয়ানের স্ত্রী রোকেয়া বেগম অভিযোগ করে জানান, আর বাড়িভিটা ও পার্শ্ববর্তী মাতারবাড়ি দারুচ্ছুন্না মাদ্রাসার রাস্তা সংলগ্ন একটি বিশাল পুকুর থেকে সাইরার ডেইল গ্রামের ড্রেজার মালিক নুরুল আলমের পুত্র শাহাব উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বড় ইঞ্জিনের ড্রেজার মেশিন বসিয়ে পুকুরের গভীরে ভূগর্ভস্থ বালি তুলে বিক্রি করে আসছে। ফলে পুকুরপাড়স্থ তার নিজের বাড়িসহ পার্শ্ববর্তী বাড়িঘর ও দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসার রাস্তা ধসে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তারা ইতিপূর্বে ড্রেজার মালিককে বাধা-নিষেধ দিলেও বালি দস্যু শাহাবুদ্দিন তা অমান্য করে অবৈধ বালির ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। বাড়ির মালিক রোকেয়া বেগম আরো অভিযোগ করেন, পুকুরের প্রকৃত মালিকরা বালি বিক্রি না করলেও মালিকের ভাই জনৈক মৃত জেবর মুল্লুক এর পুত্র ফজর রহমান প্রকাশ ফজরান প্রতিবেশী বদিউল আলমের পুত্র রফিক উদ্দিন এর বাড়ি ভিটায় ভরাট করার জন্য চুক্তিতে মোটা অংকের টাকা নিয়ে শাহাব উদ্দিনের ড্রেজার বসিয়ে পরিবেশ বিপর্যয়ের এই মারাত্মক কাজটি চালিয়ে যাচ্ছে। তার স্বামী সৌদি প্রবাসী হওয়ায় নিরীহ ওই মহিলার বাধা নিষেধ উপেক্ষা করে অবৈধ বালি ব্যবসায়ীরা অননুমোদিতভাবে পরিবেশ বিপর্যয়ের এহেন বেআইনি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এভাবে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের কাজ চলমান রয়েছে। অবৈধ মেশিনগুলোর মালিকরা ঘুরে ঘুরে গ্রামের পরিত্যক্ত খাল, ডোবা ও পুকুর থেকে বালু উত্তোলন করছে।

তিনি এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের আইনি সহযোগিতা কামনা করছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

এ বিভাগের আরো সংবাদ