মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:১৮ পূর্বাহ্ন

মহেশখালীতে শিশুশ্রমে চলছে হাজারো পরিবার

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২১

মফিজুর রহমান, মহেশখালী প্রতিনিধি:

মহেশখালীতে দশ, বার বছরের শিশুদের ঠেলে দিয়েছে সংসারের আয় রোজগারের পথে। যে বয়সে ব্যাগ নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা। সে বয়সে কাঁধে ভারী জিনিস নিয়ে এলাকায় ঘুরে ঘুরে পুড়ামিঠা, চানাচুর, বাদাম ভাজা, চনাবোট দিয়ে নিচ্ছে নানান ভাঙা ও নষ্ট জিনিস। অভাবে তারা লেখাপড়া ছেড়ে উপার্জনের পথে ঠেলে দিয়েছেন এসব অভাবনীয় পরিবার। শিশু শব্দটি ছোট হলেও এর মহত্ত্ব অনেক বেশি। এ শব্দটির সঙ্গেই জড়িয়ে আছে জাতির ভবিষ্যৎ। শিশুরাই তো আগামীর কর্ণধার, ভবিষ্যতের মূল চালিকাশক্তি। তাদেরকে যদি সুন্দরভাবে গড়ে তোলা যায়, তা হলে আমাদের সমাজ সুন্দর হয়ে উঠবে। প্রত্যেক শিশুকে নিয়ে তাদের মা-বাবার সুন্দর একটি স্বপ্ন থাকে। স্বপ্ন থাকে তার সন্তান পড়াশোনা করে বড় হবে। বড় হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করবে। প্রত্যেক শিশুরও এমনি একটি স্বপ্ন থাকে। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে অনেকের জন্য দরিদ্রতা বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। দরিদ্রতার অভিশাপ সবাইকে সে স্বপ্ন পূরণ করতে দেয় না। দেয় না বিদ্যালয়ের গণ্ডি পার হতে কিংবা বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রবেশ করতে। যে বয়সে তারা খাতা, কলম আর বই নিয়ে পড়তে যাবে ঠিক সেই বয়সে দরিদ্রতার অভিশাপে জর্জরিত হয়ে তারা নেমে পড়ে জীবিকার সন্ধানে।

তাদেরকে দেখা যায় হোটেলের বয় হিসেবে। দেখা যায় বাসের হেলপার হিসেবে। যে বয়সে সে কাঁধে স্কুল ব্যাগ নিয়ে পড়তে যাবে, সে বয়সে তার ছোট কাঁধে তুলে নেয় সংসারের দায়িত্ব।

অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা শিশুশ্রমের মূল কারণ। শিশুদের অভিভাবকরা তাদের পড়াশোনার খরচ দিতে পারে না। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে শিশুদের বাবা-মা বাধ্য হন তার সন্তানকে শ্রমে নিযুক্ত করতে।

সরকারি নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী ১৪ বছরের কম বয়সি শিশুদের কাজ করানো হলে তা শিশুশ্রমের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে। মহেশখালীতে ১৫ শতাংশের বেশি শিশু দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। এসব শিশু নিজেদের ক্ষুধা নিবারণের জন্য বেছে নেয় বিভিন্ন কাজ। পারিবারিক অসচেতনতা, আর্থিক দুরবস্থা এর জন্য দায়ী। যেসব শিশু শ্রমের সঙ্গে যুক্ত, তাদের অধিকাংশই উঠতি বয়সে কোনো সঠিক দিকনির্দেশনা না পাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে সঙ্গদোষের কারণে জড়িয়ে পড়ে নানা অনৈতিক কাজে, যা আমাদের সমাজের জন্য হুমকিস্বরূপ।

সংবিধানে শিশুশ্রমকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও সামাজে শিশুশ্রমের বিস্তার বেড়েই চলছে। শিশুশ্রম নির্মূল করার জন্য বিভিন্ন আইন ও নীতিমালা থাকলেও বাস্তবিকভাবে এর কোনো প্রয়োগ লক্ষ করা যায় না।

অধিক মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা বেশি লাভের আশায় অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের কাজে নিয়োগ দেয়। এসব ক্ষেত্রে কাজ করতে গিয়ে শিশুরা প্রতিনিয়তই বিভিন্নভাবে বঞ্চনার শিকার হচ্ছে। এরা জীবনযুদ্ধে নানা অবহেলা, শোষণের শিকারে পরিণত হলেও দুমুঠো অন্নের জন্য সংগ্রাম করে যায় অবিরাম।

শিশুশ্রমের কারণে ভেঙ্গে যায়, তাদের স্বপ্ন। শিশুশ্রমিক এ শব্দটির সঙ্গে গেঁথে আছে কত শত অপমান ও অবহেলা।

এ কঠিন চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলার জন্য সবাইকে বাড়িয়ে দিতে হবে ভালোবাসার হাত। সচেতন করে তুলতে হবে আমাদের এ সমাজ। সচেতন হবে চাকরিদাতাসহ সব অভিভাবককে। সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে আমরা শিশুশ্রমকে কমিয়ে আনতে পারব। এ জন্য এগিয়ে আসতে হবে সব সরকারি-বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে। একটি পরিবারকে দরিদ্রতা নামক অভিশাপ থেকে মুক্ত করে দিতে তাদের জন্য ব্যবস্থা করে দিতে হবে। একটু ভালোবেসে হাত বাড়ালেই আমরা গড়তে পারি সুন্দর একটি সমাজ। শিশুশ্রমমুক্ত আমাদের বাংলাদেশ।

Please Share This Post in Your Social Media

এ বিভাগের আরো সংবাদ