শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন

ভুরুঙ্গামারীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব ১২ টি পরিবার

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২১

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নে গসিডাঙ্গা গ্রামে কুরাড় পার এলাকার মার্কেটে ২৭ অক্টোবর রাত সাড়ে বারোটার দিকে এক ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ১২টি দোকান পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যাওয়ায় প্রায় কোটি টাকার অধিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ঘটনা সুত্রে জানা যায়, ২৭ শে অক্টোবর বুধবার রাত সাড়ে বারোটার দিকে গ্রাম অঞ্চলের লোকজন সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে এ সময় মোবাইল ফ্লেক্সি ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার উক্ত মার্কেটে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখে চিৎকার করে লোক ডেকে আগুন নেভাতে গেলেও দূর থেকে গ্রামের ঘুমন্ত বাসিন্দারা হতচকিত হয়ে দৌড়ে এসে রাস্তার ধারে এই মার্কেটে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও ততক্ষণে মার্কেট এর পুরো এলাকা আগুন এ ছেয়ে যায়, দমকল বাহিনীকে ফোন দিয়ে জানানো হলে তারাও দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়, তবে ততক্ষণে সবশেষ। । কারণ ফায়ার সার্ভিস নাগেশ্বরী উপজেলায় হওয়ায় পার্শ্ববর্তী উপজেলা ভুরুঙ্গামারী আসতে সময় লেগে যায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট, এতে সময়ক্ষেপণের কারণে যথাসময়ে অগ্নিনির্বাপণ সম্ভব হয় না। ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় এখন পর্যন্ত কোনো ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় হরহামেশাই এরূপ অগ্নিকাণ্ডে উপজেলার লোকজনের যথেষ্ট ক্ষতি সাধন হচ্ছে। স্থানীয়রা বলেন, বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে কয়েকবার বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করা হলেও ফোন রিসিভ হয়নি, এর উত্তরে বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম কাওসার বলেন, একটি ইমারজেন্সি নাম্বার আমাদের সব সময় খোলা থাকে যাতে ৮০ হাজার গ্রাহক কোনো না কোনো কারণে কল দিয়ে থাকে, আর ওই সময় একই সাথে কয়েকটি কল আশায় হয়তো ওয়েটিং পেয়েছে, পরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়, এটা আমি পরে দেখেছি এবং আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছিলাম । এ ব্যাপারে কথা হয় ১২ টি পরিবারের ১২ টি দোকান মালিকের সাথে যাদের সর্বস্ব পুরে নিঃস্ব হওয়ায় তারা পাগল প্রায়, যাদের একমাত্র আয়ের এর উৎসই ছিল এই দোকান, তারা মাথায় হাত দিয়ে পথে বসে পড়েছেন, প্রত্যেকেরই রয়েছে বিভিন্ন এনজিও, সংস্থা থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা ঋণ। তারা এখন পরিবার চালাবে না ঋণ পরিশোধের চিন্তা করবে কোন কিছুই ভাবার অবকাশ নেই তাদের। কথা হয় অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে নিঃস্ব হওয়া মুদি দোকানদার আব্দুল হাকিম , মোঃ আজগর আলী, টিভি মেকার মোহাম্মদ রায়হান, শাহ আলম, আখতারুজ্জামান, হোটেল ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদ, ওসমান গনি সাইকেল রিক্সার পার্টস ব্যবসায়ী মেকার হবি, সার, মাছের ফিড, চাল ব্যবসায়ী রফিকুল এবং ডেকোরেটর ব্যবসায়ী কালু মিয়ার সাথে, তাদের প্রত্যেকের একমাত্র আয়ের উৎস ছিল এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, যাদের প্রত্যেকের ঋণ, এনজিও ও বিভিন্ন সংস্থা থেকে ঋণের পরিমাণ প্রায় ২০ লক্ষ টাকা, বারোটি দোকানের মালামাল, নগদ টাকা, আসবাবপত্র সহ প্রায় ৯০ লক্ষ টাকার অধিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্তদের হিসাব অনুযায়ী ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে নাগেশ্বরী উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার ইমন মিয়া বলেন, আমরা খবর পাওয়া মাত্র দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই, ধারণা করা হচ্ছে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিটের কারণে আগুনের সূত্রপাত। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করলে জানা যাবে। এ ব্যাপারে কথা হলে ভুরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব আলমগীর হোসেন বলেন, আমরা খবর পাওয়া মাত্র রাতেই কর্মকর্তাসহ পুলিশ ফোর্স পাঠিয়েছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব দীপক কুমার দেব শর্মা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং তাৎক্ষণিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ১০ কেজি করে চাল, এক প্যাকেট লবণ, তেল, ডাল, আটা বিতরণ করেন। পরবর্তীতে কি ব্যবস্থা নেয়া হবে বা কোন সাহায্য সহযোগিতা করা হবে কিনা এ ব্যাপারে জানতে চাওয়ার জন্য কয়েকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে ভুরুঙ্গামারী উপজেলার বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা যায়, ভূরুঙ্গামারী উপজেলা হওয়া সত্ত্বেও এখানে কোন ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় তার আশু প্রয়োজন দেখা দিয়েছে, তা না হলে এমন দুর্ঘটনায় লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত হতেই থাকবে। একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা বাসির প্রাণের দাবি।

Please Share This Post in Your Social Media

এ বিভাগের আরো সংবাদ