মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:৩০ পূর্বাহ্ন

ফরিদগঞ্জে মেয়ের বেহায়াপনায় প্রতিবাদ করায় বাবা-মা লাঞ্ছিত! বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে!

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৬ আগস্ট, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার ॥

চাঁদপুর জেলাধীন ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১নং বালিথুবা (পশ্চিম) ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডস্থ উত্তর সকদি রামপুর মিজি বাড়ি (কইর বাড়ি)’তে মেয়ের বেহায়াপনায় প্রতিবাদ করায় পিতা ও মাতা লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে পিতা-মাতার সহিত এরূপ ব্যবহার ও পরিশেষে স্বামীর সাথে মোবাইল ফোনে ঝগড়ার এক পর্যায়ে তাদের ঘরে থাকা ফসলী জমিতে ব্যবহার্য কিটনাশক বার্চুডিন পানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে ওই অভিযুক্ত নারী। অভিযুক্তের নাম রাজিয়া বেগম (৩২), পিতা- সাবেক সেনা সদস্য মোফাজ্জল মিজি। বিষ পানের পর রাজিয়া বেগমকে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক দেখানোর পর অবস্থা বেগতিক দেখে দ্রুত তাকে চাঁদপুর ২৫০ শর্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে জরুরি বিভাগে রেখে ওয়াশ করে তাকে চারতলায় মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজিয়া বেগমকে গত আনুমানিক ১৪/১৫ বছর পূর্বে চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদি ইউনিয়নের গাছতলাস্থ তহশিলদার বাড়িতে বিয়ে দেয়া হয়। তার স্বামীর নাম হালিম তহশিলদার। স্বামীর সংসারে রাজিয়া বেগমের বিয়ের উপযুক্ত একটি মেয়েসহ একটি ছেলেও রয়েছে। রাজিয়ার স্বামী বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কোম্পানিতে চাকুরীর সুবাদে নিজ গ্রামে নিয়মিত থাকতে না পারায় রাজিয়া বেগম তার স্বামীর অমতে তার বাপের বাড়ি বসবাস শুরু করে। এক পর্যায়ে রাজিয়া বেগম স্বামীকে বিভিন্নভাবে চাপসৃষ্টি করে রাজিয়ার বাপের বাড়িতে বসতি স্থাপনে বাধ্য করায়। সেইথেকে রাজিয়ার স্বামী গ্রামের বাড়িতে আসলে ওখানেই থাকতেন। রাজিয়ার স্বামী চাকুরি সুবাদে বাড়িতে না থাকায় রাজিয়া উশৃংখল চলাফেরা শুরু করে। এ নিয়ে তাদের সংসারে শুরু হয় অশান্তি। যত দিন যায় রাজিয়া ততই ভয়ংকর হয়ে উঠে। নিজের পিতা-মাতাসহ ভাই-বোনদেরও সে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কথা বলতে দিতো না। যখন যা খুশি তাই করতো। এভাবে রাজিয়া বেগম দিন দিন অন্যায়ের দিকে ধাবিত হয় আর একটার পর একটা অন্যায় তার চলতেই থাকে।

জানা যায়, গত এক বছর পূর্বে রাজিয়া বেগম একই এলাকার (কেশার বাড়ির) ওমর ফারুক
(বিবাহিত) এর সাথে পরকিয়া সর্ম্পকের এক পর্যায়ে প্রেমিক ফারুকের বড় ভাইয়ের পরিত্যক্ত ঘরে গোপনে প্রবেশ করে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়। বিষয়টি প্রেমিক ফারুকের স্ত্রী টের পেয়ে ওই পরিত্যক্ত ঘরের কোন এক ছিদ্র দিয়ে তাদের দু’জনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পেলে ঘরের দরজা বাহির থেকে বন্ধ করে দেয়। এরপর ফারুকের স্ত্রী তার চাচা শ্বশুর শাহাজাহান গাজীকে খবর দেয়। তিনি ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় মানসম্মান থাকবেনা মর্মে ফারুকে স্ত্রীকে উপযুক্ত বিচার করে দিবে বলে বুঝিয়ে সুজিয়ে ঘটনাটি দামাচাপা দেয়। পরবর্তীতে একদিন দু’দিন করে আর ওই বিষয়ের কোন সুরাহ না পেয়ে রাগে ক্ষোভে লজ্জায় ফারুকের স্ত্রী এক সন্তানের জননী চলে যায় তার বাপের বাড়ি। আজও অবদি সে সেখানেই বসবাস করছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনাটি থেকেও রেহাই পেয়ে যায় পুরুষ খেকো ভয়ংকর রাজিয়া।

স্থানীয়রা আরো বলেন, রাজিয়া বেগমের যন্ত্রনায় এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। কেহ রাজিয়ার কর্মকান্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ করলে উল্টো তাকে কুপ্রস্তাব দিয়েছে বলে ফাসানোর হুমকি-ধামকি দিয়ে থাকে রাজিয়া।

স্থানীয় আরেকটি সুত্রে জানা যায়, রাজিয়া বেগমের প্ররোচনায় এবং টাকার লোভ দেখিয়ে একই এলাকার ছেলে লিটন ও পাশের তহশিলদার বাড়ির কুখ্যাত জুয়াড়ী ও মাদকসেবী আলমগীরসহ অজ্ঞাত আরো কয়েকজন মিলে স্থানীয় মোঃ শফিকের মেয়েকে গণধর্ষণ করে। গত মাস দু’য়েক আগে ওই মেয়েটির শারিরিক পরিবর্তন দেখা গেলে মেয়েটির পরিবার কর্তৃক বিভিন্ন হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার এক পর্যায়ে গোপনে এ্যাবোয়েশন করান। এই একই বিষয়ে ওই ভয়ংকর নারী রাজিয়া বেগম ভিক্টিমকে আবার নতুন করে নানা প্রলোভনে এবং মোটা অংকের টাকা পাওয়া যাবে মর্মে গণধর্ষণের সাথে জড়িত ওই এলাকার নিরিহ কিছু ব্যক্তিদ্বয়ের নাম প্রকাশসহ বাড়ির মুরুব্বি সেলিম মিজির মাধ্যমে শালিস বৈঠক ডাকতে বলেন। পরদিন আবার সেই শালিস বৈঠকে অনিহা প্রকাশ করেন।

রাজিয়া বেগমের বেহায়াপনা ও বিষপানের ব্যাপারে প্রথমে তার মায়ের কাছে জানতে চাইলে সে কোন তথ্য দেননি। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে রাজিয়ার বাবা মোফাজ্জল মিজির সাথে জানতে চাইলে তিনি উল্টো প্রতিবেদকের সাথে অসদাআচরণ করেন। অবশ্য এরপর তার ছেলে অর্থাৎ রাজিয়া বেগমের ভাই রাজু তার বাবার অসদাচরণের জন্য অনুতপ্ত হন। এরপর তিনি বলেন সম্পত্তিগত কারনে স্থানীয় কিছু ব্যক্তিদ্বয় আমাদের পরিবার তথা আমার বোন রাজিয়ার বিরুদ্ধে কুৎসা রটান। এদিকে রাজিয়ার পরকিয়া প্রেমিক ফারুকের সাথে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করতে চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

গণধর্ষণের শিকার ওই তরুণীর বাবা শফিকের সাথে মুঠুফোন কথা হলে তিনি মেয়েকে গণধর্ষণ ও গর্ভবতী করার বিষয়টি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক মিথ্যা বানোয়াট ও কাল্পনিক বলে দাবি করে বলেন, এধরনের কোন ঘটনাই ঘটেনি। এব্যাপারে আপনার পরিবারের পক্ষ থেকে বাড়ির মুরুব্বি সেলিম মিজির কাছে শালিস বৈঠক আহবান করেছেন কিনা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন না। অবশ্য এ বিষয়ে শালিসি সেলিম মিজির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আগের দিন সালিশ চেয়েছিল কিন্তু পরের দিন এসে বলে কাকা আমরা আমাদের সালিশের বিষয়টি উইড্রু করলাম। তাছাড়া এগুলো ভালো ব্যপার না তাই ওইসব নিয়ে এতো ভাবিনা বিরক্ত লাগে। আমি আমারে নিয়ে ব্যস্ত থাকি ওসব বিষয়ে জানতেও চাইনা।

রাজিয়া বেগমের এহেন কর্মকান্ডে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্যর সাথে কথা বললে তিনি বলেন এলাকাটা নষ্ট করে ফেলছে ওই ভাইরাসটা । সে যা করছে এতে করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্ষতি হবে। এলার বদনাম দেশে বিদে ছড়িয়ে যাবে। সময় থাকতে তাকে প্রতিহতসহ এসব কর্মকাণ্ড বন্ধের জন্য সমাজের সচেতনদের এগিয়ে আসার জরুরি।

Please Share This Post in Your Social Media

এ বিভাগের আরো সংবাদ