মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ০৮:৪১ পূর্বাহ্ন

পাহাড়ের ফুটবলকন্যা আনাই মগিনীর পাশে জেলা প্রশাসক

নীরব চৌধুরী বিটন, খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিনিধিঃ
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২১

সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দলের অন্যতম দুই সদস্য আনাই মগিনীর ও আনুচিং মগিনীর বাড়িতে যান খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস । তাঁদের বাড়ি খাগড়াছড়ি সদরের সাতভাইয়াপাড়ায় ।

আজ বুধবার (২৯ডিসেম্বর) দুপুরের দিকে পায়ে হেঁটে, ছড়ার ওপর বাঁশের সাঁকো পার হয়ে ফুটবলকন্যার বাড়িতে যান তিনি ।
এই সময় সেখানে গিয়ে তিনি ( জেলা প্রশাসক ) তাদের আনাই মগিনীর পরিবারের সমস্যার কথা শুনেন এবং জানতে চান । পরিবারের সুখ-দুঃখের নানান গল্প মনোযোগ দিয়ে শুনেন ।
সমস্যাগুলো জানার পরে তাদের সুপেয় পানির জন্য একটি নলকূপ এবং বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য বাড়িতে পিলার স্থাপনের আশ্বাস দেন । পরে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড় যমজ বোন আনাই মগিনীর জন্য দুই লাখ ও আনুচিং মগিনীর জন্য দুই লাখ করে মোট চার লাখ টাকা পোস্ট অফিসে এফডিআর সঞ্চয়পত্র করে দেওয়ার ঘোষণা দেন । আমি তাদের জন্য যে অর্থ এফডিআর সঞ্চয়পত্র করে দিচ্ছি তা থেকে যে লভ্যাংশ পাবে তা দিয়ে কিছুটা হলেও পরিবারের সচ্ছলতা আসবে । অন্য কোথাও থেকে যদি এমন সহযোগিতা পায় তাহলে তাদের অভাবের মধ্যে দিন কাটাতে হবে না । সেইসাথে তাদের বাড়িতে যাওয়ার জন্য যে বাঁশের সাঁকো রয়েছে তার পরিবর্তে একটি কালভার্ট নির্মাণের জন্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবগত করাবেন বলে জানান জেলা প্রশাসক।
জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, এই খেলোয়াড় দুই বোন আমাদের এ জেলাবাসীর জন্য অত্যন্ত গর্বের । তাদের নিয়ে আমাদের স্বপ্ন দেখতে হবে।এদের প্রতি এ জেলার সকল সংগঠন ও বিত্তবানদের এদের প্রতি আলাদা নজর রাখা জরুরী । তাহলে এরাই বিশ্ববাসীর কাছে আমাদের জেলার সম্মান বয়ে আনতে পারবে ।
এ সময় জেলা প্রশাসকের সফরসঙ্গী হিসেবে শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কংকন চাকমা, খাগড়াছড়ি ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জুয়েল চাকমা, খাগড়াছড়ি সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি প্রদীপ চৌধুরী, অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক ধুমকেতু চাকমা, সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বাঁশরী মারমা, সাংবাদিকসহ মারমা সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
আনুচিং মগিনী বলেন, জেলা প্রশাসক আমাদের বাড়িতে এসে খোঁজ খবর নিতে এসেছে । পড়া-শুনার পাশা পাশির খেলাধুলা চালিয়ে যাচ্ছি । আমাদের সবচেয়ে বড় পাওয়া। আমরা অনেক কষ্ট করছি। ভোর চারটায় ঘুম থেকে উঠে পাঁচটায় বাসে উঠে প্রশিক্ষণ করতে চলে যায়। কষ্ট করার পর বিজয়ী হয়েছি। এখন আর কষ্ট মনে হচ্ছে না। দেশ বাসির আশিবাদে আমরা বিজয়ী হয়েছে। দেশ বাড়িকে খুশি রাখতে পেরে আমরা আনন্দীত। খুশিতে কান্না আসে।

গত ২২ ডিসেম্বর সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

এ বিভাগের আরো সংবাদ