শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৩:১০ পূর্বাহ্ন

দিনাজপুরে ডিবি পরিচয়ে অপহরণের চেষ্টা, আটক ২

পি কে রায়, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৮ অক্টোবর, ২০২১

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় গোয়েন্দা পুলিশের পরিচয় দিয়ে দুই নারী ও তিন পুরুষকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় দুইজনকে আঁটক করেছেন স্থানীয়রা। পরে তাদেরকে চিরিরবন্দর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

গত বুধবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চিরিরবন্দর উপজেলার বেকীপুল বাজারে তাঁদের আটক করেন।

আটককৃতরা হলেন-খানসামা উপজেলার আঙ্গারপাড়া গ্রামের আইয়ুব আলীর পুত্র আনারুল ইসলাম (৩৫) ও একই উপজেলার উত্তমপাড়ার জতীশ চন্দ্র রায়ের পুত্র নিতাই রায় (৩০)।

প্রতারণার শিকার ব্যক্তিরা হলেন-ঢাকার ৫১ নম্বর ওয়ার্ডের কামরাঙ্গীচর এলাকার মৃত আব্দুর রশিদের পুত্র লিটন মুন্সি (৫০), মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার উত্তর রঞ্জনপুর গ্রামের স্বপনের পুত্র হৃদয় হোসেন (২০), ঢাকার দোহার থানার বিক্রমপুর গ্রামের সোহেলের কন্যা মোছাঃ ময়না (২০), চাঁদপুর জেলার মতলবপুর থানার একলাছপরা গ্রামের আব্দুল আজিজের স্ত্রী মোছাঃ সিমা (৪০)। অপর একজনের নাম ও পরিচয় জানা যায়নি।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ডলার ও কষ্টি পাথরের মূর্তিসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিস বিক্রির প্রলোভনে ২/৩ দিন আগে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দুজন নারী ও তিনজন পুরুষ খানসামা উপজেলার আঙ্গারপাড়া এলাকার শামীম নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে আসেন।
বুধবার বিকেলে মোটরসাইকেলে করে ছয়জন ব্যক্তি ওই বাড়িতে এসে নিজেদেরকে গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা বলে পরিচয় দেন। এ সময় অবৈধ কার্যক্রমের অভিযোগে ওই পাঁচজনকে নিজেদের মোটরসাইকেলে তুলে নেয়। পাশাপাশি এক লাখ ৩০ হাজার টাকাও হাতিয়ে নেয় তাঁরা।

ভুক্তভোগীরা জানান, থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলে তুললেও চিরিরবন্দর উপজেলার বেঁকীপুল বাজার এলাকায় ওই ছয়জনের মধ্যে চারজন মোটরসাইকেল নিয়ে সটকে পরেন। বাঁকি দুজনও পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বিষয়টি আঁচ করতে পেরে ভুক্তভোগীরা দুই মোটরসাইকেল আরোহীকে আঁটক করেন। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় তাঁদেরকে আঁটক করে চিরিরবন্দর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত কুমার সরকার জানান, “স্থানীয়রা দুজনকে আঁটক করে চিরিরবন্দর থানায় অবহিত করে। পরে থানা পুলিশ তাদেরকে আঁটক করে খানসামা থানায় হস্তান্তর করেন”।

খানসামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, “দুজন নারী ও তিনজন পুরুষ ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে এসেছিলেন ডলার, মূর্তি কিংবা ওই জাতীয় কিছু কেনার জন্য। এখানে এসে তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। যদিও তারা বলছেন যে তারা গরু কিনতে এখানে এসেছেন। কিন্তু বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য নয়”। এ ঘটনায় ওই দুজনসহ আরও ৫/৬ জনকে আসামি করে মামলা দাঁয়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

এ বিভাগের আরো সংবাদ