মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন

ত্রিশ জন ছাত্রীর আত্মরক্ষা কৌশল প্রশিক্ষণ আগামীতে বাংলাদেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে উঠবে

নীরব চৌধুরী বিটন, খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিনিধিঃ
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২১

কিশোরী ও নারীরা ঘরে কিংবা বাহিরে নিরাপদে নেই। তাই নিজেদের নিরাপত্তা ও অন্যদের সহযোগিতা করতে ত্রিশ জন ছাত্রীর আত্মরক্ষা কৌশল প্রশিক্ষণ দিচ্ছে খাগড়াছড়ি দীঘিনালা উপজেলার নয়মাইল ত্রিপুরাপাড়া জুনিয়র হাই স্কুল।

বিদ্যালয়ের সুত্রে  জানা যায়, ১৮ডিসেম্বর শেষে শুরু হয়। সপ্তাহে চার দিন প্রশিক্ষণ চলচ্ছে। ত্রিশ জন এক বছর ব্যাপী প্রশিক্ষণ পাবে। এক বছর প্রশিক্ষণ শেষে তাঁরা পরবর্তী শ্রেনীগুলোকে প্রশিক্ষণ দেবে।

আত্মরক্ষার কৌশল প্রশিক্ষণতীরা হল, মনিতা ত্রিপুরা দশম শ্রেণী, চুনকিা ত্রিপুরা দশম শ্রেণী, গীতা রানী ত্রিপুরা দশম শ্রেণী, তুলা ত্রিপুরা দশম শ্রেণী, সুচরিতা ত্রিপুরা দশম শ্রেণী, কুশিতা ত্রিপুরা দশম শ্রেণী, চলন্ত ত্রিপুরা দশম শ্রেণী, কমিতি ত্রিপুরা দশম শ্রেণী, জোসিনা ত্রিপরা দশম শ্রেণী, গনিকা ত্রিপুরা দশম শ্রেণী, দীপ্তা ত্রিপুরা দশম শ্রেণী, ভাবনা ত্রিপুরা নবম শ্রেণী, মেমি ত্রিপুরা নবম শ্রেণী, দুফুরটি ত্রিপুরা  নবম শ্রেণী, গোপিকা ত্রিপুরা নবম শ্রেণী, লিলি ত্রিপুরা নবম শ্রেণী, পিনালী ত্রিপুরা নবম শ্রেণী, সুমনটি ত্রিপুরা নবম শ্রেণী, কারিনা ত্রিপুরা নবম শ্রেণী, কমিতা ত্রিপুরা অষ্টম শ্রেণী, বর্ষা ত্রিপুরা অষ্টম শ্রেণী, চিরমতি ত্রিপুরা নবম শ্রেণী, নিপা রানী ত্রিপুরা নবম শ্রেণী, চিত্রাটি ত্রিপুরা অষ্টম শ্রেণী, জেমি ত্রিপুরা অষ্টম শ্রেণী, হরলিকা ত্রিপুরা অষ্টম শ্রেণী, রেলি ত্রিপুরা দশম শ্রেণী, জড়িতা ত্রিপুরা দশম শ্রেণী, হেনা ত্রিপুরা নবম শ্রেনী।
অভিভাবক হতেন্দ্র ত্রিপুরা বলেন, আমাদের মেয়েরা আত্মরক্ষার কৌশল প্রশিক্ষণ দিচ্ছে এটি খুবই ভালো। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে কাজে লাগাতে পারবে। প্রশিক্ষণ মাস্টার ও স্কুলের শিক্ষকরা মহান উদ্যোগ নিযেছে।      

অভিভাবক হাসিনা ত্রিপুরা বলেন, এই স্কুলে মেয়ে অষ্টম শ্রেনীতে পড়ে। আমার মেয়ে আত্মরক্ষার কৌশল প্রশিক্ষণ পেয়ে খুব খুশি। নিজে রক্ষা এবং অন্যজনকে রক্ষা করতে পারে তাই এই প্রশিক্ষণ গ্রহন করছে। প্রশিক্ষণ মাস্টারকে ধন্যবাদ। আমাদের মেয়েদের যে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে সেটি কাজে লাগিয়ে অন্য জনকে সাহার্য্য করতে পারে এটায় আমি আশা করি। 

আত্মরক্ষা কৌশল প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী লিলি ত্রিপুরা, চুনিকা ত্রিপুরা ও কুশিতা ত্রিপুরা বলেন, আমরা এখানে আত্মরক্ষা কৌশল প্রশিক্ষণ গ্রহন করছি। সেইটা আমাদের ভবিষ্যতে কাজে লাগবে। যে কোন জায়গায় দুর্ঘটনা ঘটলে আমরা কাজে লাগাতে পারব। ভবিষ্যতে আমাদের জন্য খুবই প্রয়োজনী। খুবই আনন্দীত যে আমরা এই প্রশিক্ষণ পেয়ে। যেটা আমাদের জন্য খুবই ভালো।    

তাঁরা বলেন, এই  আত্মরক্ষা কৌশল আমাদের নিজের জন্য। আমরা এই আত্মরক্ষা কৌশলটা আমাদের জীবনে কাজে লাগতে পারে। আমরা সবাই মিলে এই আত্মরক্ষা কৌশলটাকে আমরা এক সাথে শিখব এবং আমাদের ভাই-বোন পাড়ার কিশোরীদের নিয়ে আত্মরক্ষাটা আমরা শেখাব। আত্মরক্ষা কৌশলটা নিয়ে আমরা গবীত।  
আত্মরক্ষা কৌশল প্রশিক্ষক পূর্ণ মনি ত্রিপুরা বলেন, এই স্কুলের উদ্যোগে কিশোরীদের আত্মরক্ষা কৌশল প্রশিক্ষণ কর্মসূর্চি হাতে নিয়েছেন। এতে কিশোরীদের আত্মবিশ্বাস এবং স্বনির্ভরতা এবং সাবলম্বী জন্য যতেষ্ট সহযোগিতা করা হবে। এই পরিপ্রেক্ষিতে আমি তাঁদেরকে বছর ব্যাপি একটা প্রশিক্ষণ দেওয়ার হাতে নিয়েছি। এই প্রশিক্ষণের তাঁদের প্রতাশা পূরণ হবে।    
নয়মাইল ত্রিপুরাপাড়া জুনিয়র হাই স্কুলের সহকারি শিক্ষক সুতর ত্রিপুরা বলেন, আমরা শিক্ষার পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক এলাকার কিশোরীদের আত্মরক্ষা মুলক প্রশিক্ষণের আওয়াতায় নিয়ে এসেছি। যাহাতে তাঁদের নিজেদের ভবিষ্যটাকে আরো সুন্দর আরো সাবলিন আত্মনিবর গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেকে সব জায়গায় বা পরিবেশ তৈরি করতে পারে তেমন একটা উদ্যোগ বিদ্যালয়ের পক্ষে। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণের শেষে বিদ্যালয়ের মেয়েরা নিজেদের রক্ষা করতে পারবে এবং নারী নিযাতিতদের পাশে দাঁড়াতে পারবে।               

নয়মাইল ত্রিপুরাপাড়া জুনিয়র হাই স্কুলের পরিচালনা কমিটির সভাপতি কৃঞ্চ কিশোর ত্রিপুরা বলেন, দুর্গম পতন্ত এলাকার অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেনীর মেয়েদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। প্রশিক্ষণনাতীদের উপকরণ গুলো ক্রয় করা সমম্ভব হয়নি।

নয়মাইল ত্রিপুরাপাড়া জুনিয়র হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক তপু ত্রিপুরা বলেন, ত্রিশ জন কিশোরী শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা শুরু করেছি। আত্মরক্ষার কৌশল শিখন প্রশিক্ষণে অষ্টম থেকে দশম শ্রেনী পর্যন্ত মেয়ে শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহন করছে। আমাদের লক্ষ উদ্যোশ হচ্ছে দুর-দুরান্ত থেকে আমাদের এই এই বিদ্যালয়ে যারা পড়া-শুনা করে বিশেষ করে মেয়ে শিক্ষার্থীরা । তাঁরা বিভিন্ন সময়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে। ওদের মনবল বৃদ্ধি তাঁদের ভবিষ্যদ নিজেদের আত্মরক্ষা করা এবং এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অন্যকে সহযোগিতা করার মনভাব তৈরি করায় আমাদের মুল্য উদ্যোশ। তিনি বলেন, এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম করতে গিয়ে আমরা বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা প্রতিকুলতার মদ্যে পড়েছি। যার মধ্যে তাঁদের নিদিষ্ট পোশাক দিতে পারেনি। কারণ তাঁরা বেশি ভাগ জুম চাষি। দিনে আনে দিনে খাই। আমি আশা করি এই সমস্যা যদি আমরা সমাধান করতে পারি আমরা । কোন সহযোগিতা যদি পাই সংশিষ্ট কর্তৃকপক্ষ থেকে তাহলে আমরা এই প্রশিক্ষণ আরো সুন্দর করে নিয়ে যেতে পারব এবং আমাদের মেয়েকে আগামীতে বাংলাদেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে পারব। 

Please Share This Post in Your Social Media

এ বিভাগের আরো সংবাদ