মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:৫১ পূর্বাহ্ন

ডুমুরিয়ার কৃষি পরিদর্শনে কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১

মোঃ রব্বানী বিশ্বাস, ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধিঃ-

বহু ক্রোশ দূরে বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরে,দেখিতে গিয়াছি পর্বতমালা দেখিতে গিয়াছি সিন্ধু। দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া,একটি ধানের শীষের উপরে একটি শিশির বিন্দু।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় কৃষি মাঠ পরিদর্শন করেন বরেন্য কৃষিবিদ, গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় কৃষি মন্ত্রী ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক।গতকাল রবিবার সকাল ৯ টায় তিনি ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া গ্রামের ঘেরের আইলে অফসিজন শিম এবং কুলবাড়িয়ে গ্রামে ঘেরের আইলে অফসিজন তরমুজ চাষ পরিদর্শন করেন পরবর্তীতে তিনি ভরাতিয়া সরকারি প্রাথমিক মাঠে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের আয়োজনে কৃষক সমাবেশ ও মতবিনিময় সভায় অংশ গ্রহন করেন এবং ভূয়সী প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ মোছাদ্দেক হোসেনের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ আসাদুল্লাহ। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন,কৃষি উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে ডুমুরিয়া উপজেলা,তাই আমি সংঙ্গে করে নিয়ে আসছি আমার কৃষি অধিদপ্তরের সকল কর্মকর্তাগণকে দেখাতে কিভাবে কৃষক তার গায়ের ঘাম ঝরিয়ে কৃষি পণ্যজাত উৎপাদন করছে। বিগত সরকারের আমলে সারের যে দাম ছিলো সেটা এখন দাম কমিয়ে কৃষকের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন,বর্তমানে বাংলাদেশের কোনো জায়গায় এখন বিদ্যুৎ এর ঘাটতি নাই। কৃষি জমি কমতে শুরু করছে,জণসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে,তাই আমাদেরকে কৃষিখাতকে বাঁচাতে কৃষক বাঁচাতে হবে,বাংলাদেশকে ভালোবাসতে হবে।এছাড়াও তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন।পরে চুকনগর বৈদ্যভূমি পরিদর্শন করে তাল গাছের চারা রোপণ করেন।

এসময়ে তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এম পি,কৃষি মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব জনাব মোঃ মেসবাহুল ইসলাম, বিএডিসির চেয়ারম্যান ড. অমিতাভ সরকার, কৃষি মন্ত্রনালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগ এর অতিরিক্ত সচিব ওয়াহিদা আক্তার, বিভাগীয কমিশনার খুলনা মো: ইসমাইল হোসেন এনডিসি, কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মোঃ নাজিরুল ইসলাম, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মোঃ শাহজাহান কবির, বাংলাদেশ সুগারক্রপ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মোঃ আমজাদ হোসেন, বাংলাদেম পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. আয়্যুব খান, বাংলাদেশ মৃত্তিকা সম্পদ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিধান কুমার ভান্ডারী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইং এর পরিচালক একেএম মনিরুল আলম, বিসিএস কৃষি ক্যাডার এসোসিয়েশন এর সভাপতি এবং কৃষক পর্যায়ে উন্নতমানের ধান,গম,ও পাটবীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন, কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর, খুলনা অঞ্চল, খুলনার অতিরিক্ত পরিচালক জনাব জিএমএ গফুর, জেলা প্রশাসক, খুলনা জনাব মনিরুজ্জামান তালুকদার, পুলিশ সুপার, খুলনা জনাব মোহাম্মদ মাহবুব হাসান, উপপরিচালক কৃষি সস্প্রসারন অধিদপ্তর, খুলনা জনাব মোঃ হাফিজুর রহমান, উপপরিচালক, সাতক্ষীরা মোঃ নুরুল ইসলাম, উপপরিচালক বাগেরহাট, মোঃ সফিকুল ইসলাম, উপপরিচালক, নড়াইল দীপক কুমার রায়, উপপরিচালক উদ্ভিদ সংগনিরোদ কেন্দ্র মোংলা মোহন কুমার ঘোষ, ডিডি, হেড কোয়ার্টার হাসান ওয়ারিসুল কবীর, ক্দাল ফসর উন্নয়ন প্রকল্পের পিডি মোঃ মোখলেছুর রহমান, গোপালগঞ্জ, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও পিরোজপুর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের পিডি মোঃ আলগীর বিশ্বাস,

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন,ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এজাজ আহমেদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবদুল ওয়াদুদ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শারমিনা পারভীন রুমা, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গাজী আব্দুল হালিম, ডুমুরিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ ওবাইদুর রহমান, কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ,ডুমুরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগ,যুবলীগ,ছাত্রলীগ,কৃষকলীগ ও বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। প্রিণ্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ,সুধিজজন এবং সহস্রাধিক কৃষক কৃষাণী।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার লীলাভুমি আমাদের এই বাংলাদেশ।এর প্রত্যেক পরতে পরতে লুকিয়ে আছে সৌন্দর্য, যা সৌন্দর্য পিপাসু মানুষের মনকে উদ্বোলিত করে।খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলা লবনাক্ত প্রবন একটি উপজেলা।আরও ২০-২৫ বছর আগেও যেখানে ছিল শুধু পানি আর পানি। ডুমুরিয়ার দুঃখ ছিল বিল ডাকাতিয়া। কৃষক কোনদিন কল্পনা করতে পারেনি এই পানির ভিতরে জেগে উঠবে সবুজের সমারহ। আজ কেবল সবুজ নয়, ডুমুরিয়ার কৃষি বাংলাদেশের আইডল। বর্তমানে ২১৬৬০ হেঃ জমিতে বোরো, ১৫৫২৫ হেঃ জমিতে আমন, ৩২০ হেঃ জমিতে আউশ, ৩৬৫০ হেঃ জমিতে রবি সবজি, ২৫৫০ হেঃ জমিতে খরিপ-২, সবজি, ২০২০ হেঃ জমিতে খরিপ-১ সবজি হচ্ছে।

শুধু তাই নয়, বিগত ২-৩ বছরে ডুমুরিয়ার কৃষিতে যুক্ত হয়েছে অফসিজন তরমুজ, রকমেলন, ত্বিনফল, মাল্টা, বানিজ্যিক থাই পেয়ারা, স্কোয়াশ, ড্রাগন ফলসহ নিত্য নতুন প্রযুক্তি যা ডুমুরিয়ার কৃষিতে এনে দিয়েছে এক অনন্য মাত্রা। কৃষি কৃষক এবং সম্প্রসারন কর্মীর মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক এবং কৃষকের অদম্য মনোবলের কারনে এটি সম্ভব হয়েছে। ডুমুরিয়ার ঐতিহ্য চুইঝাল, সাথে আছে ১০ ফুট লম্বা নিউটন কচু, আরও আছে ঘেরের পাড়ে দিগন্ত জুড়া শিম, সামার টমেটো, কুল, আম এবং অন্যান্য সবজি। বর্তমানে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ মোছাদ্দেক হোসেনের নেতৃত্বে ডুমুরিয়ার কৃষি এক অনন্য উচ্চতায়,আজ ডুমুরিয়ার সবজি যাচ্ছে ইউরোপসহ মধ্যেপ্রার্চ্যে।

Please Share This Post in Your Social Media

এ বিভাগের আরো সংবাদ