শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন

জমির বিরূধের জের ধরে রামদার কুপে আহত এক নারী পুলিশ সদস্য

জুবায়ের খন্দকার, ময়মনসিংহ
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

গ্রামের বাড়িতে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে এসে জমির বিরূধে জেরে ময়মনসিংহ সদর চর ভবানীপুর গ্রামে প্রতিপক্ষের রামদার কুপে গুরুতর আহত হয়েছেন সুমাইয়া খাতুন নামের এক নারী পুলিশ সদস্য। আহত নারী পুলিশ সদস্যকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। আহত সুমাইয়া খাতুন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুমে কর্মরত আছেন।

স্থানীয় এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে জানা গেছে যে, ময়মনসিংহ সদর উপজেলার সিরতা ইউনিয়নের চর ভবানীপুরে গত ২৩ বছর ধরে জমিজমা নিয়ে আজিজুল হক ও আলী আকবরের পরিবারের সাথে দ্বন্দ্ব রয়েছে। আর এই দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিক মামলাও চলমান রয়েছে।

গতকাল শনিবার বিকালে দুই পরিবারের দ্বন্দ্বের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে মিমাংসার কথা হয়। কিন্তু সেই স্থানে আজিজুল হকের পরিবারের পক্ষ থেকে সালিশে না এসে উল্টো রাস্তায় গাছ ফেলে ব্যারিকেড দেয়। এই ব্যারিকেডের বিষয়টি নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আজিজুল হকের পরিবারের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে আলী আকবরের পরিবারের উপর হামলা করে। এমন সময় আলী আকবরের বোন সুমাইয়া খাতুন তার কোলের শিশু বাচ্চাকে নিয়ে বারান্দায় বসে ছিলেন। তখন তাকে লক্ষ্য করে আজিজুল হকের সন্ত্রাসী বাহিনীর একজন সুমাইয়া খাতুনের মাথায় রামদা দিয়ে কুপ দিলে ঘটনাস্থলে ওই নারী পুলিশ সদস্য জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে স্থানীয় এলাকাবাসীরা তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। এ ঘটনায় সুমাইয়ার ছোট বোনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এবিষয়ে জানতে গেলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০নং ওয়ার্ডে ভর্তিকৃত আহত নারী পুলিশ সদস্য সুমাইয়া খাতুন বলেন-আজ সালিশ হওয়ার কথা থাকলেও আজিজুল হকের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ আসেনি বরং উল্টো তারা আমাদের বাড়ির সামনে গাছ ফেলে যাতায়তের পথ বন্ধ করে দেয়। পরে রাস্তা বন্ধের কারন জানতে চাইলে তারা পরিকল্পিতভাবে আমাদের উপর হামলা চালায়। আমাকে রামদা দিয়ে কুপ দিলে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। যখন জ্ঞান ফিরে তখন দেখি আমি হাসপাতালে।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি শাহ কামাল আকন্দ বলেন-সুমাইয়া খাতুন নামের নারী পুলিশ সদস্য মাতৃত্বকালীন ছুটিতে এসে হামলার শিকার হন। তার অবস্থা গুরুতর। সে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তবে বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানালেন ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার এই কর্মকর্তা।

Please Share This Post in Your Social Media

এ বিভাগের আরো সংবাদ