শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৯:২৩ পূর্বাহ্ন

ছোট শিশুদের পুতুল খেলা কালের বির্তনে হারিয়ে যাচ্ছে

রতি কান্ত রায়, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১

সভ্যতার ত্রুমবিকাশ অার অাধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলিপ্ত প্রায় কিশোর ও কিশোরীদের পুতুল খেলা। বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জে পুতুল খেলা খেলেনি এমন ছেলে ও মেয়ে খুজে পাওয়া মুশকিল।

গ্রামবাংলায় বিভিন্ন মেলা যেমন রথের মেলা, বৈশাখী মেলা, শিবরাত্রি, দশহারার মেলা , পৌষ সংত্রুান্তি ও নানা পাবর্ণে হরেক রকমের পুতুল পাওয়া যেত এখন প্লাস্টিকের পুতুলেরও চল হয়েছে।

অবুঝ অতিথিয়তা খেলায় মেতে উঠতো এক সময় গ্রামের সহজ সরল কিশোর ও কিশোরীরা । কল্পনা থেকে বাস্তবতায় রুপ দেওয়ার প্রতিভাই হচ্ছে পুতুলের বিয়ে খেলা । কোমল হাতের পরশে দর্জির কাছ থেকে টুকরা কাপর দিয়ে তৈরি করে ছেলে- মেয়ে বর- কনে নতুবা কলার গাছের ডোগোল দিয়ে তৈরি করতো।

রান্না-বান্না, সন্তান লালন- পালন মেয়ে পুতুলের সাথে ছেলে পুতুলের বিয়ে ইত্যাদি নানা বিষয়ের অভিনয় করে খেলা হতো পুতুল খেলা। অাসলে পুতুল খেলার মধ্যে পুরো সংসারের একটা প্রতিছবি ফুটে ওঠত ।

পুতুলগুলো যেন ছোট-ছোট সোনামনিদের সন্তান। মায়ের মতোই স্নেহ অার অাদর দিয়ে খাওয়া থেকে শুরু করে ঘুম পাড়ানো পর্যন্ত সব কাজই করতো খুকুমায়েরা অার কেবল মাত্র অাদর ও সোহাগেই নয় প্রয়োজনে শাসনও করতো ছোট মেয়েরা তাদের পুতুল সন্তানকে।

মিছামিছি বিয়ে খেলায় ব্যস্ত গ্রামীন সরলা বনিতা । নিজেদের মতো করে পছন্দের খেলার সাথীর পুতুলের সাথে বিয়ের প্রস্তাব পাঠান ঘটকের মাধ্যমে । প্রথা অনুযায়ী বর বা কনে পক্ষের বাড়িতে সওদা পাঠান । অবুঝ কিশোর -কিশোরীদের মধ্যে অতিথিযতার মান অভিমানও সৃষ্টি হয় ।

পরম আত্মীয়তার সম্পর্কের বন্ধনে জড়িয়ে পড়ে গ্রামের কোমল মতি ছেলে-মেয়ে । আর এ সম্পর্কের টানে জড় বস্তুর প্রেমে আকৃষ্ট হয় জীবজগৎ।

জীবন জগতে প্রত্যেক জীব বৈচিত্র্যময় সম্পর্কের জালে আবদ্ধ । কেউ সাজে পুতুলের মা আবার কেউবা বাবা ।মাসি-পিসি,ভাই-বোন,ননদি-দেবর,শ্বশুর-শ্বাশুর সকলেই মমতাময়ীর ভুমিকায় অবতীর্ণ হয় ।

গর্ভ ধারনী মা ও বাবার মত কর্তব্য পালন করেন পুতুলের বাবা-মা । পুতুলকে বিবাহ দেওয়া থেকে যাবতীয় কর্তব্য পালন করে ।

এই মিছামিছি সম্পর্কের খেলায় গড়ে ওঠে গ্রাম-গ্রামান্তরের ছেলে-মেয়ের সাথে বন্ধুত্ব পূর্ণ গভীর সম্পর্ক । যা জাতি ধর্ম-বর্ণের গন্ডি ভেঙ্গে চুরমার করে । ফলশ্রুতিতে পৃথিবী ভরে উঠে অতিথিওতার লালন ভুমিরুপে।

আধুনিক সমাজে ছেলে-মেয়েরা যন্ত্রের সাথে জন্ম থেকে পরিচিত হয়ে উঠছে । যান্ত্রিক খেলনা শুধু শিশুকে নিষ্ঠুরতা শিক্ষা দেয় না,কেড়ে নেয় সেই মমতাময়ী সম্পর্কের প্রীতি ।

তাই বলা হয়েছে,”প্রযুক্তি দিয়েছে বেগ,কেড়ে নিয়েছে আবেগ । “

Please Share This Post in Your Social Media

এ বিভাগের আরো সংবাদ