মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:১১ পূর্বাহ্ন

খাজনার জাল রশিদ দিয়ে জমি রেজিষ্ট্রির সেই দলিল লেখককে শোকজ

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১

জুবায়ের খন্দকার, ময়মনসিংহঃ-

স্টার বাংলা ২৪-এ সংবাদ প্রকাশের দু’দিন পর ময়মনসিংহের গৌরীপুরে জাল খাজনার রশিদ দিয়ে জমি রেজিষ্ট্রির সময় সজীব নামের এক যুবক হাতে নাতে ধরা পড়ার পর এই ঘটনায় জরিত সংশ্লিষ্ট দলিল লেখক আব্বাস আলী সরকার (সনদ নং-৪৩৬৩)-কে শোকজ করেছেন সাব-রেজিষ্টার। এই বিষয়টির সত্যতা স্টার টেলিভিশনকে জানালেন ময়মনসিংহের গৌরীপুর সাব-রেজিষ্টার অফিসের অফিস সহকারী আম্বিয়া খাতুন।

ওই সাব-রেজিষ্টার অফিসের বেশ কয়েকজন দলিল লেখক অভিযোগ করে বলেছিলেন-অফিস সহকারী আম্বিয়া খাতুনের সহযোগিতায় বরখাস্ত হওয়া দলিল লেখক সজিব অন্য দলিল লেখকের সাক্ষর নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ জাল কাগজপত্র তৈরী করে জমির দলিল রেজিষ্ট্রি করে আসছিলেন। গত ৫ সেপ্টেম্বর হাতে নাতে খরা পড়ার পর সাবাই জানতে পারে যে, কোথাও একটা ভুল ছিল।

তারই প্রক্ষিতে স্টার টেলিভিশনের এক প্রশ্নের জবাবে অফিস সহকারী আম্বিয়া খাতুন বলেন-সজিবের সাথে তার কোন পরিচয় নেই। ঘটনার দিন ৩ ঘন্টা আটকে রাখার পর তাকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে সজিবকে তিনি কোন ধরনের সহযোগিতা করেননি। তবে এই ঘটনার সাথে জরিত থাকার অভিযোগে দলিল লেখক আব্বাস আলী সরকারকে শোকজ করা হয়েছে। সেই সাথে আগামী ৭ দিনের মধ্যে দলিল লেখক আব্বাস আলী সরকারকে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গতঃ গত ৫ সেপ্টেম্বর রবিবার ময়মনসিংহের গৌরীপুর সাব-রেজিষ্টার অফিসে জাল খাজনার রশিদ দিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে জমির দলিল রেজিষ্ট্রির সময় এক প্রতারক দলিল লিখককে হাতে-নাতে ধরে ফেলেন সাব-রেজিষ্টার। প্রায় ৩ ঘন্টা আটক রেখে কোন ধরনের আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে কোন এক অজানা কারনে প্রতারক দলিল লিখককে ছেড়ে দেন সাব-রেজিষ্টার। সাব-রেজিষ্টারের এই ধরনের কান্ড দেখে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসীসহ আরো অনেকে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায় যে. গত রবিবার দুপুরের দিকে দলিল লেখক আব্বাস আলী সরকার (সনদ নং-৪৩৬৩) সাক্ষরিত একটি দলিল রেজিষ্ট্রির জন্য উপজেলার সতিষা গ্রামের বরখাস্ত হওয়া দলিল লেখক সজিব সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সাথে একটি জাল রশিদ জমা দেন। দলিলের কাগজপত্র যাচাই করার সময় সাব-রেজিষ্টারের কাছে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। সাথে সাথে ওই প্রতারক দলিল লেখক সজিবকে রেজিষ্টার অফিসের একটি কক্ষে আটকে রাখে। পরে প্রায় ঘন্টা তিনেক আটকে রাখার পর কোন এক অজানা কারনে কোন রকম আইনি পদক্ষেপ না নিয়েই প্রতারক দলিল লিখককে ছেড়ে দেন সাব-রেজিষ্টার। সাব-রেজিষ্টারের এই ধরনের আচরন দেখে ক্ষুব্ধ হয়েছেন অন্যান্য দলিল লেখকগণ সাথে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সাধারন মানুষ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন দলিল লেখক বলেন- জাল খাজনার রশিদসহ ভূয়া দলিল লেখক ধরা পড়ার পরও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ওই বন্ধ কক্ষেই মাটি চাঁপা দেওয়া হয়েছে। তবে তারা এই ঘটনার একটা সুষ্ঠ তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

এ বিভাগের আরো সংবাদ