মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজারের পর্যটক ধর্ষণের ঘটনায় ৩ জনকে শনাক্ত

অনলাইন ডেক্স
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২১

কক্সবাজারে পর্যটক ধর্ষণের ঘটনায় ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী নারী। এ ঘটনায় সিসিটিভির ফুটেজ দেখে তিন জনকে শনাক্ত করেছে র‍্যাব। তাদের মধ্যে একজন শহরের বাহারছড়া এলাকার সন্ত্রাসী আশিক বলে জানা গেছে।

মামলার প্রধান আসামি আশিকুল ইসলাম। এজাহারভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন আশিকের দুই সহযোগী ইস্রাফিল খুদা ওরফে জয় ও মেহেদী হাসান ওরফে বাবু এবং রিসোর্টের ব্যবস্থাপক রিয়াজ উদ্দিন।

ঢাকা থেকে স্বামীর সাথে বেড়াতে গিয়ে বুধবার রাতে ধর্ষণের শিকার হন তিনি। সমুদ্র সৈকতে ধাক্কাধাক্কির ঘটনাকে কেন্দ্র করে অপহরণের পর ওই নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

র‍্যাব-১৫ কক্সবাজারের সিপিসি কমান্ডার মেজর মেহেদী হাসান জানান, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ও খোঁজখবর নিয়ে পর্যটক নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় তিনজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার সমুদ্র পাড়ের একটি মার্কেটে স্বামী সন্তানসহ ঘুরছিলেন ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা এক নারী। এসময় ভিড়ের মাঝে ঐ নারীর স্বামীকে ধাক্কা দেয় সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তরা। এক পর্যায়ে ধাক্কা-ধাক্কি করে স্ত্রীর কাছ থেকে স্বামী ও সন্তানকে আলাদা করে ফেলে চক্রটি।

গৃহবধুকে ছুরির ভয় দেখিয়ে সিএনজি অটোরিকশা করে নিয়ে যায় শহরের একটি নির্জন স্থানে এবং তিনজন মিলে ধর্ষণ করে তাকে।

পরে স্বামী সন্তানকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে ঐ গৃহবধুকে একটি হোটেলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তদের একজন। সেখানে আবারো ধর্ষণ করা হয় গৃহবধুকে।

ওই নারীর স্বামী জানান, বুধবার সকালে ঢাকা থেকে স্ত্রী ও আট মাসের সন্তানকে নিয়ে তিনি কক্সবাজার বেড়াতে যান। বিকেলে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে ঘুরতে যান। বালুচর দিয়ে হেঁটে পানির দিকে নামার সময় এক যুবকের সঙ্গে তাঁর ধাক্কা লাগে। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে সন্ধ্যায় তাঁর স্ত্রীকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। একটি ঝুপড়ি চায়ের দোকানে নিয়ে তিনজন তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করে। তারপর একটি রিসোর্টে নিয়ে স্ত্রীকে আটকে রাখা হয়। পরে দুর্বৃত্তরা কক্ষের দরজা বাইরে থেকে লক করে চলে যায়। এসব ঘটনা যেন কাউকে না জানানো হয়, তা নিয়ে ভয়ভীতিও দেখানো হয়।

ভুক্তভোগী নারী জানান, এক ব্যক্তির সহায়তায় তিনি দরজার লক খোলেন। তখন তিনি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দেন। সেখান থেকে বলা হয় থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার জন্য। তারপর এক ব্যক্তির সহযোগিতা তিনি কল দেন র‍্যাব-১৫-তে।

খবর পেয়ে র‍্যাবের একটি দল হোটেল রুম থেকে গৃহবধূকে উদ্ধার করে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে হোটেল ম্যানেজারকে।

র‍্যাব জানিয়েছে, ধর্ষকদের সবাইকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

Please Share This Post in Your Social Media

এ বিভাগের আরো সংবাদ